← সব গাইড

রুকইয়ার পানি তৈরির সঠিক নিয়ম — ৬টি ব্যবহার পদ্ধতি

২০/৪/২০২৬ · পড়ার সময়: ৯ মিনিট

লেখক: Qurane Shop টিম | এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে "পড়া পানি" অনেক প্রচলিত। গ্রামের কবিরাজ থেকে শহরের মসজিদের ইমাম — অনেকেই পানিতে ফুঁ দিয়ে দেন। কিন্তু কতজন সঠিক নিয়মে এটা করেন?

সমস্যা হলো — অধিকাংশ "পড়া পানি" কবিরাজি উপাদানে দূষিত। কোন পাত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কী পড়া হয়েছে, কার নিয়্যাত কী — এগুলো না জেনে অন্যের পড়া পানি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো পথ হলো — নিজে শিখুন, নিজে তৈরি করুন। এই লেখায় রুকইয়ার পানি তৈরির সম্পূর্ণ সঠিক পদ্ধতি এবং ৬টি ব্যবহার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।

রুকইয়ার পানি কি?

রুকইয়ার পানি হলো এমন পানি — যাতে কুরআনের আয়াত ও সহিহ দু'আ পড়ে ফুঁ দেওয়া হয়েছে। এরপর সেই পানি পান করা, গোসলে ব্যবহার করা, রান্নায় মেশানো বা ঘরে স্প্রে করা — সবই কুরআন ও হাদিস সম্মত।

এটা কোনো কুসংস্কার নয়। এর ভিত্তি সহিহ হাদিসে প্রমাণিত।

কুরআন-হাদিসে রুকইয়ার পানির ভিত্তি

সাহল ইবনে হুনাইফের ঘটনা

সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-এর গায়ে বদনজর লাগলে রাসূল ﷺ বদনজরদাতার অজুর পানি তার গায়ে ঢালার নির্দেশ দিলেন। সেই পানি ব্যবহার করার সাথে সাথে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। আবু দাউদ: ৩৮৮৭

সাবিত ইবনে কায়েসের ঘটনা

রাসূল ﷺ একটি পাত্রে পানি নিলেন, তাতে ফুঁ দিলেন এবং সাবিত ইবনে কায়েসের মুখে ও বুকে ছিটিয়ে দিলেন। আবু দাউদ: ৩৮৮৫

আইয়ুব (আ.)-এর আরোগ্য

"আমরা আইয়ুবের দিকে ওহী করলাম — তোমার পা দিয়ে আঘাত করো, এই ঠান্ডা পানি গোসল ও পানের জন্য।"
সূরা সোয়াদ: ৩৮:৪২

আল্লাহ নিজেই পানিকে শিফার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন — এটাই রুকইয়ার পানির সবচেয়ে বড় দলিল।

তৈরির আগে প্রস্তুতি

  • পাত্র: পরিষ্কার কাচের বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র (প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন)
  • পানি: ফিল্টার করা বিশুদ্ধ পানি (সম্ভব হলে জমজমের পানি কয়েক ফোঁটা মেশান)
  • অজু: শর্ত নয়, তবে অজু অবস্থায় করলে উত্তম
  • জায়গা: পবিত্র ও শান্ত স্থান, ঘরের ছবি-মূর্তি সরান
  • নিয়্যাত: শুরুতে মনে মনে বলুন — "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রুকইয়ার পানি তৈরি করছি"

যা পড়বেন — সিরিয়াল অনুযায়ী

পাত্রের উপর হাত রেখে বা পাত্রের দিকে মুখ করে পড়ুন:

  1. দরুদ শরীফ (দরুদে ইবরাহীম) — ৭ বার
  2. সূরা ফাতিহা — ৭ বার
  3. সূরা কাফিরুন — ৩ বার
  4. সূরা ইখলাস — ৩ বার
  5. সূরা ফালাক — ৩ বার
  6. সূরা নাস — ৩ বার
  7. আয়াতুল কুরসি — ১ বার
  8. দরুদ শরীফ — ১ বার

শেষে বিশেষ দু'আ:

"আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাস আযহিবিল বা'স, ওয়াশফি আনতাশ শাফি, লা শিফা'আ ইল্লা শিফা'উক, শিফা'আন লা ইউগাদিরু সাক্বামান।"
"হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূর করুন, শিফা দিন। আপনিই শিফাদাতা। আপনার শিফা ছাড়া কোনো শিফা নেই — এমন শিফা যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।" — সহিহ বুখারি: ৫৬৭৫

ফুঁ দেওয়ার নিয়ম

প্রতিটি সূরার পর পানিতে ফুঁ দিন। ফুঁ দেওয়ার পদ্ধতি — হালকা থুতুর ছিটা মিশিয়ে ফুঁ, যেভাবে মুখে কিছু আটকে গেলে ফেলা হয়। রাসূল ﷺ-এর পদ্ধতি এটাই।

একেবারে শেষে পাত্রে হাত ডুবিয়ে বা পানি নাড়িয়ে দিতে পারেন। পানিতে রুকইয়ার শক্তি সঞ্চারিত হয়ে যাবে।

৬টি ব্যবহার পদ্ধতি

১. পান করা

  • সকালে খালি পেটে ৩ ঢোক
  • ঘুমানোর আগে এক গ্লাস
  • মেডিকেল চিকিৎসার পাশাপাশি দিনে যেকোনো সময়

কেন কার্যকর: পেটে কোনো জাদু বা স্পিরিচুয়াল সমস্যা থাকলে রুকইয়ার পানি পান সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে।

২. গোসলের পানিতে মেশানো

সবচেয়ে কার্যকর গোসল পদ্ধতি:

  • ১ লিটার রুকইয়ার পানি
  • ৭টি তাজা বরই পাতা বেটে মেশানো
  • এক চিমটি পিঙ্ক সল্ট
  • সামান্য গোলাপ জল
  • ১ চা-চামচ অলিভ অয়েল

মাথায় ঢালুন প্রথমে, তারপর পুরো শরীরে। গোসলের আগে ৩ ঢোক পান করুন। প্রতি ৩-৪ দিনে একবার।

৩. ঘর মোছার পানিতে

  • এক বালতি পানিতে আধা কাপ রুকইয়ার পানি মেশান
  • এই পানি দিয়ে ঘরের মেঝে মুছুন
  • সপ্তাহে ২-৩ দিন
  • বিশেষত দরজার চৌকাঠ ও কোণার জায়গা

৪. স্প্রে বোতলে

  • রুকইয়ার পানি + সামান্য আতর বা গোলাপ জল
  • শোবার ঘরে, বাচ্চার ঘরে স্প্রে করুন
  • বিশেষত রাতে ঘুমানোর আগে
  • ঘরে কেউ অসুস্থ থাকলে তার ঘরে স্প্রে

৫. রান্নায়

  • ভাত বা তরকারির পানিতে ২-৩ চামচ মেশান
  • চা বা দুধে মেশানো যায়
  • পুরো পরিবার খেলে পুরো পরিবার উপকৃত হবেন
  • বাচ্চার খাবারেও দেওয়া যায়

৬. বাচ্চার দুধে বা খাবারে

  • মায়ের বুকের দুধে বা ফর্মুলায় ২-৩ ফোঁটা
  • বাচ্চার পানীয়তে মেশানো
  • বাচ্চার গোসলের পানিতে একটু মেশানো
  • বদনজর থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি

বাচ্চাদের বদনজরের বিস্তারিত আলোচনা: বাচ্চাদের বদনজর — লক্ষণ ও প্রতিকার →

রুকইয়ার পানি কতদিন রাখা যায়?

পরিবেশস্থায়িত্ব
রুমের তাপমাত্রায়২-৩ দিন
ফ্রিজে৭ দিন পর্যন্ত
দুর্গন্ধ হলেফেলে দিন, নতুন তৈরি করুন

সতর্কতা

  • কালো বা গাঢ় রঙের বোতলে রাখবেন না
  • অপবিত্র স্থানে রাখবেন না (টয়লেট বা বাথরুমে নয়)
  • অন্যদের সাথে শেয়ার করা যায় — শিফার নিয়্যাতে
  • ফেলে দিতে হলে পবিত্র মাটিতে বা গাছের গোড়ায় ঢালুন
  • ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডা পান করতে পারবেন — কার্যকারিতা কমে না

রুকইয়ার পানি তৈরি করতে সাহায্য দরকার?

আমাদের রুকইয়া পেপার + সেলফ গাইড — পানি তৈরির ধাপ, পান ও গোসলের নিয়ম সব বাংলায় লেখা। আরবি উচ্চারণ ও অর্থসহ। হাতে নিয়ে পড়ুন।

অর্ডার করুন — ক্যাশ অন ডেলিভারি →

সম্পর্কিত আর্টিকেল